স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে পৃথক দুটি চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই আসামিকে দীর্ঘমেয়াদি সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী টিটোকে যাবজ্জীবন এবং অভয়নগরের অস্ত্র মামলায় শহিদুল ইসলাম ওরফে রফিক গাজীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আইরিন পারভীন পৃথক এ দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন।
হেরোইন মামলায় টিটোর যাবজ্জীবন:
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৩ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর শহরের চাঁচড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় শফিউদ্দিনের ছেলে টিটোর বসতবাড়িতে অভিযান চালায় এলিট ফোর্স র্যাবের একটি দল। এ সময় টিটোকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং তাঁর ঘর তল্লাশি করে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় র্যাবের ডিএডি আব্দুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে এসআই তাসলিমা টিটোকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামি টিটোকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
অস্ত্র মামলায় রফিক গাজীর ১০ বছরের কারাদণ্ড:
অপরদিকে, অভয়নগর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হক গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে রফিক গাজীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত।
নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাতে অভয়নগরের রাজঘাট কার্পেটিং বাজার সংলগ্ন যশোর-খুলনা মহাসড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় থানা পুলিশ। বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা রফিক গাজীকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর হেফাজত থেকে ১টি সুটার পাইপগান উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভয়নগর থানার এসআই আরিফুর রহমান বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেন এবং পরবর্তীতে এসআই মামুনুর রশিদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক আসামি রফিক গাজীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিয়েই বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
