স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরতলীতে বৃহৎ যৌথ বিনিয়োগ ও মুনাফার লোভ দেখিয়ে ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নওদাগ্রামের বাসিন্দা মো. কবির ইকবাল।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কবির ইকবাল অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের শেষের দিকে সঞ্জয় কুমার নামের এক ব্যক্তির সাথে তাঁর পরিচয়ের সূত্রে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সঞ্জয় কুমার তাঁকে যশোরের চাঁচড়া এলাকায় ‘হাজেরা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল’, ‘হাজেরা রিসোর্ট’ ও ‘হাজেরা সিটি অ্যাপার্টমেন্ট’ শিরোনামে আনুমানিক ৬০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে যৌথ বিনিয়োগের সুলভ প্রস্তাব দেন। এতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলে আকর্ষণীয় নির্দিষ্ট হারের মুনাফা এবং প্রকল্পের মালিকানা প্রদানেরও লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
কবির ইকবাল জানান, সঞ্জয় কুমারের কথায় আশ্বস্ত ও প্রলুব্ধ হয়ে তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পর্যায়ক্রমে সঞ্জয় কুমার, আনিসুজ্জামান, আক্তারুজ্জামান ও মোস্তাক আহমেদের মাধ্যমে ব্যাংকিং চ্যানেল ও নগদে সর্বমোট ৮৭ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা বা মূলধন ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা কোনো হিসাব না দিয়ে উল্টো নানা টালবাহানা শুরু করে এবং তাঁকে প্রাণনাশের পাশাপাশি ভুয়া মামলায় ফাসানোর হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে।
প্রতারণার হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে ও টাকা উদ্ধারের তাগিদে তিনি বাধ্য হয়ে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের নামোল্লেখ করে একটি মামলা (মামলা নং-৭৪৭/২০২৬, পল্টন) দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কবির ইকবাল তাঁর কষ্টার্জিত আত্মসাৎ হওয়া টাকা দ্রুত উদ্ধারে যশোর, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক আইনি ও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা জোর দাবি জানান। একই সাথে কোনো পক্ষের প্রভাবে একতরফা অবস্থান না নিয়ে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ ও দস্তাবেজ যাচাই-বাছাইপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের বিনীত অনুরোধ জানান। ছবি সংগৃহীত।

