স্ত্রীর সহযোগীতায় ঝাড়ফুঁকের আড়ালে অসুস্থ কিশোরীকে ধর্ষণ!

স্ত্রীর সহযোগীতায় ঝাড়ফুঁকের আড়ালে অসুস্থ কিশোরীকে ধর্ষণ!

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া

তারিখ: ৩ নভেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঝাড়ফুঁক দিয়ে চিকিৎসার নামে এক অসুস্থ কিশোরীর সঙ্গে প্রতারণা, বিয়ের প্রলোভনে দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করা এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম মূসা ওরফে ‘মুসা হুজুর’ উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলীর বাসিন্দা এবং এলাকায় তিনি ঝাড়ফুঁকের কবিরাজি চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় নারী নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসাকে প্রধান অভিযুক্ত করে তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাদী মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের সুবাদে বরিশালের রূপাতলীতে বসবাস করেন। তাঁর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যা কলাপাড়া পৌরসভার নাচনাপাড়া মদিনা বাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে কিশোরী কন্যাটি তার সৎমায়ের সঙ্গেই ওই বাসায় বসবাস করে আসছিল।

কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার চেষ্টা চালায়। এরই একপর্যায়ে পূর্বপরিচিত অসীম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার নামে মুসা বিভিন্ন কৌশলে ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দৈহিক মেলামেশায় লিপ্ত হন এবং গোপনে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অসংখ্য ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ব্ল্যাকমেইল করে দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করা হয়।

একপর্যায়ে কিশোরী ও তার পরিবার কবিরাজ মুসা ও অসীমকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে আসামিরা ভিডিওগুলো পেনড্রাইভে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। সেখানে তারা বিষয়টি চেপে যেতে হুমকি দেন এবং অন্যথায় ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এতে পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, মুসা হুজুরের বিরুদ্ধে অতীতেও বহু নারীর সঙ্গে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস রয়েছে। তান্ত্রিক বা ঝাড়ফুঁকের আড়ালে তিনি নারীদের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত ও ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এদিকে অভিযুক্ত কবিরাজ তাইজুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির লোক দাবি করে সামনাসামনি কথা বলবেন বলে সংযোগ কেটে দেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ওই কথিত হুজুরের বিরুদ্ধে এর আগে তাঁর তৃতীয় স্ত্রীর দায়ের করা অপর একটি মামলাও রয়েছে। এছাড়া কিশোরীর মায়ের সঙ্গেও কিছু আপত্তিকর দৃশ্য পুলিশের হাতে এসেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। : ফাইল ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

ঝিকরগাছায় হুজুরকে ‘টাইট দিতে’ করা হয়েছিল যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

আরবপুরে কুপিয়ে ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা, ২য় দফায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহতের উপর হামলা !

এআইএস বিভাগকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন পিইএসএস

মাইকপট্টিতে মিছিলে অংশ নেওয়া আ.লীগের ৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলার বিচার চেয়ে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে ক...

যশোর জেনারেল হাসপাতালে সোনা ছিনতাইকালে নারী গ্রেপ্তার

কেশবপুরে বিষপানে আবু বক্কর মুন্সি নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু

খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিয়মের অভিযোগে যশোরের ‘পাঁচফোড়ন রেস্টুরেন্ট’কে লাখ টাকা জরিমানা

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *