স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার শংকরপুর এলাকার ‘গারে হেরা দারসূল কুরআন আইডিয়াল মাদ্রাসা’র পরিচালক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষক-অভিভাবকদের কোটি টাকার প্রতারণা এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের পচা-বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম টিউশন ফি ও শিক্ষার্থীদের খাবার খরচ আদায় করে হঠাৎ পরিচালক উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদ্রাসাটির ১২ জন শিক্ষকের বিগত কয়েক মাসের বেতন বাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা বকেয়া রেখেছেন পরিচালক ইমরান হোসেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার ভবন মালিকের বকেয়া ঘর ভাড়া বাবদ পাওনা জমেছে প্রায় দুই লাখ টাকা। চলতি শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে এসে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে আগামী কয়েক মাসের বেতন ও খরচের টাকা অগ্রিম আদায় করে তিনি হঠাৎ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। অভিযুক্ত পরিচালক ইমরান হোসেন যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।
প্রতারণার পাশাপাশি আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ নিয়ে মিলেছে ভয়াবহ ও অমানবিক তথ্য। ভুক্তভোগী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ— দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোকাযুক্ত চাল, পচা ডাল এবং বাঁশি আলু ভর্তা দেওয়া হতো। এমনকি পুষ্টি তালিকা ও খাবার মেন্যুতে মাছ-মাংসের কথা উল্লেখ থাকলেও গত এক বছর ধরে তা শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, মাদ্রাসার বাথরুম ও ড্রেনের পাশে গজিয়ে ওঠা কচুর লতি ও শাকসবজি কুড়িয়ে এনে রান্না করে তাদের দেওয়া হতো। বহুবার খাবারের প্লেট ও পাত্রে ইঁদুরের মল ও পোকা ভাসতে দেখা গেছে। বাধ্য হয়েই ক্ষুধার তাড়নায় সেই পচা-বাসি খাবার খেতে হতো তাদের।
এদিকে পরিচালক উধাও হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সামলাতে আসা মাওলানা শাহজান বাবুকে কেন্দ্র করেও অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও অর্থ আত্মসাতের মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলে মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে।
বছরের সমাপনী পরীক্ষার ঠিক পূর্বমুহূর্তে মাদ্রাসার এই সার্বিক বিশৃঙ্খলা ও পরিচালকের আত্মগোপনে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, পরিচালকের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজ অবিলম্বে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা ও শিক্ষা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার, শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা। ছবি সংগৃহীত।
