স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, সোনা ও মাদক চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িয়ে সংবাদের শিরোনাম হওয়া যশোর শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘গোল্ড শহীদ’কে চূড়ান্তভাবে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় হাইকম্যান্ড।
বিজ্ঞাপন
শোকজের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন (এমপি) তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদ থেকে অব্যাহতির এই কঠোর বার্তাটি সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।
সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের মতো দায়িত্বশীল পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে শার্শা সীমান্ত এলাকায় অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠছিল শহীদুল ইসলাম ওরফে ‘গোল্ড শহীদ’-এর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে স্বর্ণ চোরাচালান, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী নানা কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নজরে এলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে কেন্দ্রীয় কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠায়। নোটিশে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছিল যে, জাতীয়তাবাদী যুবদল কোনো অসামাজিক, অনৈতিক বা আইনি বরখেলাপকারী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে অপকর্ম চালানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযুক্ত ‘গোল্ড শহীদ’ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের মতো কোনো যুক্তি দাঁড় করাতে ব্যর্থ হন। সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁকে স্বপদ থেকে চিরতরে অব্যাহতি দিল কেন্দ্র।
এ আদেশের পর সীমান্ত ঘেঁষা যশোর শার্শা এলাকার যুবদলের নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংগঠনের পদ ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে ব্যাপারে এই ঘটনাকে কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। ছবি সংগৃহীত।

