স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে পৃথক তিনটি স্থানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, ফাঁস দেওয়া ও আকস্মিক আঘাতের ঘটনায় ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও এক কিশোরীসহ মোট তিনজনের বেদনাবিধুর মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা থেকে আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালের মধ্যে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক, মণিরামপুর উপজেলা এবং শহরের পালবাড়ি এলাকায় এসব মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নতুনহাট বাজার সংলগ্ন ধোপাখোলা এলাকার কওমি মাদ্রাসার সামনে একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাতনামা পরিবহন যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপ দেয়। অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে রিকশায় থাকা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা যাত্রী সোনিয়া (৩৫) গুরুতর আঘাত পান। তবে অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকে তাঁর কোলে থাকা ১০ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশুসন্তান। স্থানীয়রা রক্তাক্ত সোনিয়াকে উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোনিয়া শার্শা উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামের দাউদ হোসেনের স্ত্রী।
অন্যদিকে, আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলেরহাট-রাজগঞ্জ সড়কের বাগেরহাট বাজার এলাকায় একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেল পথচারীদের ধাক্কা দিলে এক বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সাব্বির রহমান (২৬) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। আহত সাব্বির বাঘারপাড়া উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আফরা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা উভয়কে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আঘাতপ্রাপ্ত অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে, মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের চাপাকোনা গ্রামে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে সুফিয়া বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ওই গ্রামের কাওছার আলী শেখের স্ত্রী। শনিবার দিবাগত রাত থেকে রবিবারের মধ্যে কোনো এক সময় তিনি এ আত্মহননের পথ বেছে নেন। খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এছাড়া, যশোর শহরের পালবাড়ি সংলগ্ন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কোয়ার্টারে খাট থেকে নামার সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গলায় মারাত্মক আঘাত পায় সামিয়া মিম (১৬) নামে এক কিশোরী। শনিবার রাত ৮টার দিকে এ অঘটনটি ঘটে। স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহতের গলায় সুস্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পৃথক এসব হৃদয়বিদারক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানায়, প্রতিটি ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


