স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
মাদ্রাসা পরিচালনা ও স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে যশোরের নীলগঞ্জে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ চালিয়েছেন স্থানীয় শতাধিক ক্ষুব্ধ অধিবাসী। একপর্যায়ে ক্ষোভ ছড়াতে থাকলে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা, যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন প্রতিবাদ ঘিরে দিনভর থমথমে অবস্থা বিরাজ করে পুরো এলাকায়।
এলাকাবাসীর দাবি, নীলগঞ্জের ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ ও স্থানীয় মসজিদের তদারকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে অনন্যা ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তা বন্ধ রাখতে বলেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে আয়ান নামের এক শিশু শিক্ষার্থী ও রেক্সনা নামের এক নারীকে প্রহার করেন। এতে ওই নারী গুরুতর আহত হয়ে মাথা ফেটে যায় বলে দাবি করে ক্ষুব্ধ জনতা।
বিজ্ঞাপন
অথচ গত সোমবার রাতেই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের ইতি টানতে একটি সমঝোতা হয়েছিল বলে জানা গেছে। চুক্তি অমান্য করে মাদ্রাসা বন্ধের আদেশ এবং শিক্ষার্থী-নারীর ওপর হামলাই মূলত এলাকাবাসীকে রাজপথে নামতে বাধ্য করে।
বিক্ষোভ চলাকালীন বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে এমপি পরিবারের পক্ষ থেকে এক স্বজন সেখানে উপস্থিত হন। তবে উত্তেজিত জনতা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিক্ষোভের গতি বেড়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে গিয়ে ঠেকে। বিক্ষুব্ধরা এমপি ও তাঁর কন্যার দ্রুত বিচার দাবি করে মহাসড়কে বসে পড়েন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরিদর্শক (অপারেশন) জানান, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা চলছে। অঘটন এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্যের স্ত্রী শারমিন ভিনা। তিনি জানান, তাঁদের মেয়ে অনন্যা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে কিছু শিশু নিয়মিত হইচই ও উৎপাত করত, যার প্রতিবাদ করেছিল অনন্যা। একে কেন্দ্র করেই একটি চক্র সুযোগ বুঝে তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে এবং মিথ্যা রটাচ্ছে।
ছবি সংগৃহীত।
