স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে বিভিন্ন নিরীহ পরিবারের জমি দখলের অপচেষ্টা, ক্রমাগত ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে মানসিক ও সামাজিকভাবে চাপ সৃষ্টির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে শামসুদ্দীন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার ও নিজেদের ভিটেমাটি সুরক্ষার তাগিদে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে আনোয়ার হোসেনসহ ওই এলাকার জমি-সংক্রান্ত বিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত ও উচ্ছেদের আতঙ্কে থাকা শতাধিক মানুষ স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) ইসমাইল কলোনি এলাকার নিপীড়িত ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই প্রতিবাদী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী চক্র তাদের নিজস্ব জমিজমা জোরপূর্বক জবরদখল করার পায়তারা চালাচ্ছে। এছাড়া কথায় কথায় হুমকি-ধামকি দেওয়া এবং মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে তাদের পরিবারগুলোকে চরম হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা মূলত ভূমিহীন পরিবার হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তাঁর মা খোদেজা বেগমের নামে ইসমাইল কলোনি এলাকায় ৫ শতক জমি বরাদ্দ পেয়েছিলেন। দাগ নম্বর ১৩৭৬ ও মৌজা নম্বর ৭৭-এর অন্তর্ভুক্ত ওই সরকারি বরাদ্দকৃত জমিতে তাঁরা বহু বছর ধরে ঘরবাড়ি তুলে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সম্প্রতি শামসুদ্দীন উক্ত জমির ভুয়া মালিকানা দাবি করে তাঁদের ভিটেমাটি থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদের পাঁচতারা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে যে, কেবল আনোয়ার হোসেনের পরিবারই এই চক্রের একমাত্র শিকার নয়। যশোর শহরের বেজপাড়া, বকচর ও মুড়লীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার আরও বেশ কয়েকটি পরিবারের জমিজমা নিয়ে একই কায়দায় দখলদারিত্ব ও বিরোধ তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য পরিবারের সদস্য সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজ নিজ ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, জমির মূল মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে উক্ত প্রভাবশালী মহল ভয়ভীতি প্রদর্শন, ক্যাডার দিয়ে হামলা এবং কোটে মিথ্যা মামলা ঠুকে দিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে জমি ছাড়তে বাধ্য করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভূমিসংক্রান্ত সরকারি দপ্তরের কিছু অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরোক্ষ যোগসাজশে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে জালিয়াতি করা হচ্ছে।
উপস্থিত ভুক্তভোগীরা আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, বিতর্কিত জমির আসল স্বত্ব ও মালিকানা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের মূল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই, সরজমিনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আদালতে চলমান মামলাগুলোর সঠিক আইনি নিষ্পত্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে আইনগত সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিরীহ পরিবার যেন জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা পেশিশক্তির কাছে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানান তারা। ছবি সংগৃহীত।

