স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার চাঁনপাড়া মৌজায় রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি খাটিয়ে নিজের বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি দখলের পাঁয়তারা, নবনির্মিত সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সাবেক সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, জীবনের দীর্ঘ চাকরিজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চিত অর্থ দিয়ে চলতি বছরের গত ৮ জানুয়ারি যশোর সদর থানার চাঁনপাড়া মৌজার ৭০১ ও ৭০২ নম্বর দাগের ৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি মূল মালিক সুজনের নিকট থেকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সরকারি যাবতীয় বিধি মেনে জমিটি তাঁর নামে নামজারি (মিউটেশন) ও খাঁজনা খারিজও অনুমোদন লাভ করে।
তিনি ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করে বলেন, জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয় একটি মহল তাঁকে নানাভাবে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টির আপস-মীমাংসা করে তিনি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সম্পন্ন করেন। কিন্তু একপর্যায়ে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানা মূল জমি বিক্রেতা সুজনের মৃত চাচার স্ত্রী হনুফা বেগমকে প্ররোচিত ও ব্যবহার করে জমিতে অবৈধ অংশীদারিত্বের দাবি তুলে আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করান।
আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, আদালতের আদেশে মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ইতোমধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। উক্ত সরকারি পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদনে জমিটি তাঁর একচ্ছত্র ও বৈধ দখলে থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশি তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পরও থেমে থাকেনি প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী তাণ্ডব। আজাদের অভিযোগ, গত ২২ আগস্ট হনুফা খাতুন, তাঁর ছেলে রায়হান ওরফে রকি, রিফাত, গোলাম নবী, আসাদুল্লাহ, রফিকুল ও বিপুলসহ একদল সশস্ত্র লোক জোরপূর্বক তাঁর ক্রয়কৃত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা সেখানে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয় এবং মূল সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে সাবেক এই সেনা সদস্যকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করা হয়। এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার ও অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শুধু জমি দখলই নয়, অনলাইন ও অফলাইনে তাঁর চরিত্রহনন করা হচ্ছে জানিয়ে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘অবৈধ ক্রেতা’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানা নিজস্ব ব্যানার ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষপর্যায়ে তিনি নিজের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, হামলা-ভাঙচুর ও হত্যার হুমকিতে জড়িত সন্ত্রাসী চক্রকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে তাঁর পৈতৃক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তির পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
একই সঙ্গে বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানা ও তাঁর সহযোগীদের ইন্ধন ও অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আবেগপ্লুত আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন সদস্য হিসেবে আইন মেনে চলি। আমি কারো এক ইঞ্চি জমিও অবৈধভাবে দখল করতে চাই না; আমি কেবল আমার রক্ত পানি করা উপার্জনে কেনা বৈধ সম্পত্তির পূর্ণ অধিকার ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা চাই।”ছবি সংগৃহীত।


