স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
পচা ডিমের প্যাটিস বিক্রির কারণে শিশু অসুস্থ হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং বিস্কুট-কেকের গায়ে উৎপাদনের তারিখ না থাকার দায়ে যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানার জনপ্রিয় ‘নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’ ও ‘সিদ্দিক বেকারি’কে অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ টিম।
বিজ্ঞাপন
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে দড়াটানা মোড় এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ ঝটিকা তদারকি অভিযান পরিচালনা করে।
বিজ্ঞাপন
অভিযানে দেখা যায়, নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বিক্রির জন্য রাখা বিস্কুট ও কেকের প্যাকেটে কোনো মেয়াদ এবং উৎপাদনের সময় উল্লেখ ছিল না। এই ভোক্তা আইন লঙ্ঘনের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি একই এলাকার সিদ্দিক বেকারিকেও অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের দায়ে আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের পরিচালক সেলিমুজ্জামানের পরিচালনায় এই অভিযান বাস্তবায়িত হয়। তদারকি টিমে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এবং যশোর জেলা পুলিশের একটি দল সহায়তায় উপস্থিত ছিল।
জানা গেছে, সম্প্রতি নিউ সাকো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে কেনা ডিম প্যাটিসে পচা উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে শহরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী ক্রেতা উজ্জ্বলের ভাষ্যমতে, গত বুধবার সন্ধ্যায় তিনি উক্ত দোকান থেকে পরিবারের জন্য চারটি ডিম প্যাটিস কেনেন। বাড়ি ফিরে তাঁর ছোট মেয়ে প্যাটিসে কামড় দিতেই তীব্র দুর্গন্ধ পান। পরীক্ষা করে দেখা যায় ভেতরকার ডিমটি পচা ও নষ্ট। উক্ত বাসী খাবার খেয়ে তাঁর দুই সন্তান পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নষ্ট প্যাটিস নিয়ে দোকানে অভিযোগ করতে গেলে কর্মচারীরা ত্রুটি মেনে নিলেও ক্যামেরায় ধারণ করার সময় এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে রোববার সকালে ঝটিকা পরিদর্শনের পর নিউ সাকোসহ স্থানীয় বেকারিগুলোর খাবারের গুণগত মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে শহরবাসীর মনে নতুন করে সন্দেহ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, নামিদামি আউটলেটগুলোতে প্রদেয় পণ্যের কাঁচামাল মানসম্মত কি না এবং মেয়াদ সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না— তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি চালানো প্রয়োজন। ছবি সংগৃহীত।

