স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় ও দীর্ঘ দুই বছরের গভীর প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ের দাবিতে এক কিশোরীর বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছেন অপর এক তরুণী। উভয়েই দাবি করেছেন—মোবাইল ফোনেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের টুপিপাড়া গ্রামে। এ নিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে মাগুরার শ্রীপুরের টুপিপাড়া গ্রামের ওই কিশোরীর সাথে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা এক তরুণীর পরিচয় ঘটে। ভার্চুয়াল পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে।
সম্পর্কের একপর্যায়ে পরিবারের অগোচরে ওই কিশোরী ঘর ছেড়ে মাদারীপুরে প্রেমিকার বাড়িতে চলেও যায়। পরবর্তীতে শ্রীপুর ও রাজৈর থানা পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে এবং সমঝোতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবার মাগুরায় ফিরিয়ে আনে।
তবে ঘটনার রেশ সেখানেই থামেনি। সম্প্রতি পুলিশের আনা সেই মীমাংসা উপক্ষো করে মাদারীপুরের ওই তরুণী নিজেই সুদূর মাদারীপুর থেকে এসে মাগুরার শ্রীপুরে কিশোরীর নিজ বাড়িতে এসে অবস্থান নেন।
অভিযুক্ত দুই তরুণীর সুস্পষ্ট দাবি— মোবাইল ফোনেই তাঁরা ধর্মীয় বা আইনি উপায়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, তাই এখন তারা একসাথে সংসার করতে চান।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি ও চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে কিশোরীর পরিবার। স্থানীয় সমাজব্যবস্থা ও প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে দুই তরুণীর এই অবস্থান পরিবার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ এড়াতে কিশোরীর পরিবার পুনরায় থানা পুলিশ ও মাদারীপুরে অবস্থানরত ওই তরুণীর অভিভাবককে বিষয়টি অবহিত করেছে।
কিশোরীর স্বজনেরা জানান, প্রশাসনিক ও আইনি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই অদ্ভুত জটিলতার স্থায়ী সমাধান চান তারা, যাতে সমাজ বা পরিবারের আর কোনো সম্মানহানি না ঘটে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষকে নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।ছবি সংগৃহীত।


