মাগুরা প্রতিনিধি :
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সার ব্যবসার ন্যূনতম অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সার গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান চালিয়ে একটি গোপন গুদাম থেকে মোট ২৮৮ বস্তা সরকারি রাসায়নিক সার উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অবৈধ সার মজুতের দায়ে গুদাম মালিক জামিরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের টিকারবিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে টিকারবিলা বাজারে অভিযুক্ত জামিরুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি আধাপাকা গুদামে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিকালে গুদামে অসাধু উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা ১৩৯ বস্তা ডিএপি (DAP) এবং ১৪৯ বস্তা টিএসপি (TSP) সার হাতেনাতে জব্দ করা হয়।
কৃষি বিভাগ সুনির্দিষ্টভাবে জানায়, জামিরুল ইসলাম খুচরা বা পাইকারি কোনো ধরনের সার বিক্রির জন্য অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতা নন। অধিক মুনাফা অর্জনের লোভে এবং স্থানীয়ভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চড়া দামে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশেই তিনি এসব সার গোপন গুদামে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাঁর অপরাধ নিঃশর্তভাবে স্বীকার করেন।
অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, “কৃষকের স্বার্থে বরাদ্দকৃত সরকারি সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবৈধ মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চক্রান্ত বরদাশত করা হবে না। অসাধু মজুতদারদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের এ ধরনের কঠোর সাঁড়াসি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমাউল হুসনা পিংকি জানান, “অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ মজুতের বিষয়টি স্বীকার করায় আইনানুগ দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে একজন অননুমোদিত ব্যক্তি কীভাবে এবং কোন্ উৎস থেকে এত বিপুলসংখ্যক সার সংগ্রহ করলেন এবং এর নেপথ্যে কোনো বড় সিন্ডিকেট বা অনুমোদিত ডিলারের যোগসাজশ আছে কি না—তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।” ছবি সংগৃহীত।


