মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরা শহরের ব্যস্ত এলাকায় মোটরসাইকেল চালক এক পুলিশ সদস্যকে সাইড না দেওয়ার অজুহাতে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে মাগুরা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয় এবং জেলা পুলিশ বিভাগে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা শহরের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেন মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কন্ট্রোলরুমে কর্মরত রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে বসা অবস্থায় পুলিশ সদস্য ইমরানকে উপস্থিত দুই সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) সামনেই সরাসরি চড়-থাপ্পড় মারছেন মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়ন। এমনকি এ সময় নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণও করতে দেখা যায় তাঁকে। এর আগের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, নয়ন স্থানীয় লোকজনকে ডেকে এনে ওই পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। সেখানে উপস্থিত মাগুরা সদর থানার এএসআই শরিফুল ও এএসআই মাসুদ নিজেদের পরিচয় দিয়ে চাবি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নয়নের সঙ্গে থাকা মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন উল্টো তাঁদের সঙ্গেও তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনার পরই শুক্রবার সন্ধ্যায় নাইমুজ্জামান নয়নকে মাগুরা সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ কয়েকজন নেতা থানায় পৌঁছে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন।
অভিযুক্তকে আটকের তথ্য অস্বীকার করে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার পর বিষয়টির রহস্য উন্মোচনে নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি মুচলেকা রেখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নিজের আচরণের সপক্ষে সাফাই গেয়ে অভিযুক্ত নাইমুজ্জামান নয়ন বলেন, “ঠিকাদারি কাজ ও অসুস্থ মায়ের চিন্তায় সারাদিন না খেয়ে মেজাজ খারাপ ছিল। ঢাকা রোড এলাকায় যানজটে পুলিশ সদস্যকে বারবার হর্ন দেওয়া সত্ত্বেও তিনি সাইড দেননি এবং বাজে মন্তব্য করেন। মেজাজ ধরে রাখতে না পেরে চাবি কেড়ে নিয়ে একটি থাপ্পড় দিয়ে ফেলেছিলাম, তবে কাজটি ভুল হয়েছে।”
প্রকাশ্যে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যের গায়ে হাত তোলা এবং পরবর্তীতে কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা ছাড়া তাঁকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজ ও পুলিশের বিভিন্ন মহলে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো মামলা বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

