মাগুরা প্রতিনিধি :
মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে দুটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনায় আলেম মুফতি রাব্বি ইসলাম নাঈমসহ দুজন মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও এক তরুণী গুরুতর আহত হয়ে জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার অপরাহ্ণে মহাসড়কের আবালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বিজ্ঞাপন
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বেঙ্গা বেরইল গ্রামের অধিবাসী গোলাম রাব্বানীর ছেলে আশিকুর রশিদ রিপন এবং একই উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রামনগর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে আলেম মুফতি রাব্বি ইসলাম নাঈম। অন্যদিকে মারাত্মকভাবে জখম হওয়া চিকিৎসাধীন তরুণী নিহত আশিকুর রশিদ রিপনের কন্যা বৃষ্টি আক্তার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিকুর রশিদ রিপন নিজ কন্যা বৃষ্টি আক্তারকে চিকিৎসক দেখিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে মুফতি রাব্বি ইসলাম নাঈম মোটরসাইকেল চালিয়ে মাগুরা শহরের পুরাতন বাজারের একটি মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যান দুটি মহাসড়কের আবালপুর বিদ্যালয় অতিক্রম করার মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অত্যন্ত জোরে মুখোমুখি ধাক্কা খায়। বিকট শব্দে দুই মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিটকে পড়লে ঘটনাস্থলেই মুফতি নাঈমের প্রাণহানি ঘটে।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে আশিকুর রশিদ রিপন ও তাঁর কন্যা বৃষ্টি আক্তারকে তাত্ক্ষণিকভাবে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবীণ ব্যক্তি রিপন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অপরদিকে মেয়ে বৃষ্টি আক্তারের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মাগুরা রামনগর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন জব্দ ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি আইনগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

