স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে কিশোর ওমর আলী (১৪) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর জেলা। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মো. নজরুল ইসলাম (৪৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাসের ক্ষেত থেকে কিশোর ওমর আলীর ধারালো অস্ত্রে আঘাতপ্রাপ্ত রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা (নম্বর-০২, তারিখ-০৫/০১/২০২১) দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পিবিআই ফরিদপুর জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক মো. তাজুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্ত টিম গত ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২০:০৫ ঘটিকায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া এলাকার লাল মিয়া টাওয়ারস্থ জনৈক মাসুদ রানার ভাড়া বাসা থেকে মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং গত ৬ অক্টোবর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
বিজ্ঞাপন
পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি নজরুল ইসলাম ভিকটিম ওমর আলীর গ্রাম্য সম্পর্কের নানা ছিলেন। ভিকটিম ও অন্যান্য আসামিরা পরস্পর বন্ধু এবং নিয়মিত একত্রে মাদক সেবন করতেন। এদের মধ্যে এক সহযোগী আসামির স্ত্রীর সাথে ভিকটিমের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ভিকটিম অপর আরেকজন সহযোগীর স্ত্রীর সাথেও পরকীয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে ভিকটিমের ওপর ওই দুই আসামির মধ্যে তীব্র বিরোধ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা ভিকটিমকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করে। বিষয়টি জানার পর আসামি নজরুলও তাদের প্রস্তাবে রাজি হন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে আসামিরা ভিকটিমকে পথ থেকে ধরে অপর এক আসামির বাড়ির টয়লেটে নিয়ে যায়। সেখানে নজরুল ভিকটিমের জামা খুলে তার মুখ ও হাত বেঁধে ফেলেন এবং অন্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করেন। এরপর ভিকটিমকে একটি মুরগির খামারে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে সবাই মিলে কমল মন্ডল ওরফে বিপুলের ঘাসের ক্ষেতে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। অপরাধ সংঘটনের পর নজরুলকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হলে তিনি এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেন।
পিবিআই ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, পিএসসি জানান, পেশাদার ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

