কোচিং সেন্টারে স্কুলছাত্রীর সাথে শিক্ষকের অনৈতিক কাণ্ডের  ভিডিও ভাইরাল : শিক্ষক চাকরিচ্যুত

কোচিং সেন্টারে স্কুলছাত্রীর সাথে শিক্ষকের অনৈতিক কাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল : শিক্ষক চাকরিচ্যুত

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

ফরিদপুরের ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজ পরিচালিত কোচিং সেন্টারে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চরম অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ আবারো (১ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দুপুরের দিকে বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব উদ্যোগে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন। সেখানে অধ্যয়নরত দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি অশালীন ও অনুচিত আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই গত ১৯ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে গত ২৯ অক্টোবর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে প্রতিষ্ঠান থেকে চিরতরে অব্যাহতি প্রদান করে।

এহেন লজ্জাজনক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ঐতিহ্যগতভাবে এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। কিন্তু এ ধরনের অশুভ ও গর্হিত ঘটনায় ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নজরুল ইসলাম আমাদের বিদ্যালয়ের একজন খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁকে বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, অনৈতিক ওই ঘটনাটি সরাসরি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেনি, বরং শিক্ষকের ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারে সংঘটিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বিধায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, গত ১৯ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের পর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে গত ২৯ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রাপ্ত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *