স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে অন্তঃসত্ত্বা করার পর জন্মের পরপরই অর্থের বিনিময়ে নবজাতক বিক্রির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের দ্রুততম সময়ের এক অভিযানে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এক তরুণীর সঙ্গে একই এলাকার এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হলে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ভুক্তভোগীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই তরুণী একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তার পরিচয় চিরতরে গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে শিশুটিকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নবজাতককে হাতবদল করার জন্য একশ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দেড় লাখ টাকার একটি লিখিত চুক্তি করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টিগোচরে এলে তার সরাসরি নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে নবজাতকটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
অভিযান চলাকালে নবজাতক হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা সেই চুক্তিপত্রটিও জব্দ করে পুলিশ। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট কঠোর ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং পুরো চক্রটিকে সমূলে উৎপাটন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, নবজাতককে নিরাপদে উদ্ধার এবং এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও তৎপরতা প্রদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী তরুণীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
