ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ শহরে সন্তানকে দেখার বাহানায় সাবেক স্ত্রীর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে পলাশ হোসেন (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। অভিযুক্ত যুবক শৈলকূপা উপজেলার গাবলা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি চক্ষু হাসপাতালে কর্মরত বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক পছন্দে ভুক্তভোগী ওই স্কুলশিক্ষিকার (৩১) সঙ্গে পলাশের বিয়ে হয়েছিল। প্রায় ৬ বছর দাম্পত্য জীবন অতিক্রম করার পর চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী লতিফাকে তালাক দেন পলাশ। তাঁদের দাম্পত্য সংসারে আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরও কন্যাসন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের অজুহাতে পলাশ ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই বেকাব্রিজ এলাকার ওই ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন সময় নারীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালাতেন।
সর্বশেষ গত রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গৃহবধূ তাঁর শিশুকন্যাসহ নিজ কক্ষে অবস্থান করার সুযোগে পলাশ কৌশলে ঘরে ঢুকে অশালীন আচরণ ও ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগীর আত্মচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই অভিযুক্ত পলাশ স্থান ত্যাগ করে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে স্বজনদের পরামর্শে ভুক্তভোগী নারী ঝিনাইদহ সদর থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (মামলা নং-নারী ও শিশু ৯/১) রুজু করে। এরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পলাশকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করে জানান, বিচ্ছেদ পরবর্তী স্পর্শকাতর এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত পলাশ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকালে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

