মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কৃষক নায়েব আলীকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে ছেলে আল-আমিন পাটোয়ারীকে মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁর বাবা ইউনুচ আলী পাটোয়ারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আল-আমিনকে ৫০ হাজার টাকা এবং ইউনুচ আলীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মাসুদ আলী জনাকীর্ণ আদালতে এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইউনুচ আলী পাটোয়ারী (৫৬) ও তাঁর ছেলে আল-আমিন পাটোয়ারী কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম সূত্রে জানা গেছে, বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের ২৮ মে মালিয়াট গ্রামের কৃষক নায়েব আলীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উক্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট অভিযুক্ত ইউনুচ আলী পাটোয়ারী ও তাঁর ছেলে আল-আমিন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা।
পরবর্তীতে মামলাটির সুনির্দিষ্ট বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সার্বিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা ও অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ছেলে আল-আমিন পাটোয়ারীকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাবা ইউনুচ আলী পাটোয়ারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
নজিরবিহীন দ্রুততম সময়ে এই রায় ঘোষণার পরপরই আদালত প্রাঙ্গণে স্থানীয় জনসাধারণ ও আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নায়েব আলীর স্বজনেরা অবিলম্বে আসামিদের সাজা দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি এডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তের সঠিক তথ্য বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমেই আদালত এই রায় প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে দ্রুততম সময়ে এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। ছবি সংগৃহীত।

