রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) :
কিছু বিদায় কেবল সরকারি আদেশ বা কোনো কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক খবর নয়, তা হয়ে ওঠে একটি অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার গভীর বহিঃপ্রকাশ। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকারের আকস্মিক বদলির খবরে তেমনই এক বিষণ্নতা ও আবেগের ছায়া নেমে এসেছে পুরো কোটচাঁদপুরজুড়ে। দায়িত্ব পালনের স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তাঁর অনন্য কর্মনিষ্ঠা, সততা, প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও প্রগাঢ় মানবিক আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনিক দায়িত্বের জটিল বলয় পেরিয়ে সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের প্রতি তাৎক্ষণিক আন্তরিক নজর দেওয়া এবং সাধ্যমতো সব উপায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তিনি দ্রুতই এক প্রকৃত জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর দৈনন্দিন আচার- আচরণে যেমন ছিল সৌজন্য ও শালীনতা, ঠিক তেমনই দায়িত্ব পালনে ছিল কঠোর নিষ্ঠা এবং স্থানীয় মানুষের কল্যাণে কাজ করার গভীর আকুলতা।
বিজ্ঞাপন
তাঁর বদলির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কোটচাঁদপুরবাসীর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় নাগরিকদের মতে, সরকারি চাকরিতে স্থানান্তর ও বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক নিয়ম হলেও কিছু গুণী মানুষের প্রস্থান সহজে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তাঁরা কেবল একটি পদের দায়িত্ব সামলান না, বরং নিজেদের ব্যতিক্রমী কর্ম ও মানবিক গুণাবলী দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর ও স্থায়ী ছাপ রেখে যান।
দীপা রানী সরকারের ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যতিগ্রাম ঘটেনি। তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত কর্মকাল হলেও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, নিরপেক্ষ ভূমিকা ও অমায়িক ব্যবহারের স্মৃতি কোটচাঁদপুরের প্রতিটি মানুষের মনে দীর্ঘদিন অম্লান থাকবে বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
কোটচাঁদপুরবাসীর অন্তরের প্রত্যাশা—নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মস্থলেও তিনি একই সততা, নিষ্ঠা ও সুবিচারের নীতি বজায় রেখে দেশ ও জনগণের সেবায় সাফল্য বজায় রাখবেন। ইউএনও দীপা রানী সরকারের নতুন কর্মস্থলের পথচলার জন্য স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে রইল গভীর শ্রদ্ধা, সুস্বাস্থ্য ও নিরন্তর শুভকামনা। ছবি সংগৃহীত।


