কৃষকদের মাথায় হাত, ফুলে ফেঁপে উঠছেন কৃষি কর্মকর্তা!

কৃষকদের মাথায় হাত, ফুলে ফেঁপে উঠছেন কৃষি কর্মকর্তা!

মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

চলতি আমন মৌসুমে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলারদের কাছে নির্ধারিত সারের দেখা না পেয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অন্যদিকে খোলা বাজারে ও নির্দিষ্ট দোকানে চড়া দামে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে সরকারি সার। স্থানীয় চাষিদের গুরুতর অভিযোগ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ডিলারদের সাথে যোগসাজশে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা গোপনে কালোবাজারে বিক্রি করে কৃষি কর্মকর্তা ও অসাধু চক্র ফুলেফেঁপে ঢোল হচ্ছেন, অন্যদিকে চরম লোকসান ও আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের দাবি, সরকারি ডিলার ও বিসিআইসি পয়েন্টে গেলে চাহিদার ১০ শতাংশ সারও দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কৃষকদের স্থানীয় বাজারের নির্দিষ্ট কালোবাজারিদের কাছ থেকে দেড় থেকে দ্বিগুণ দামে সার কিনতে হচ্ছে। সাধারণ প্রান্তিক কৃষকদের সঠিক তালিকা তৈরিতেও ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যেখানে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিতর্কিত ভূমিকা স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কালীগঞ্জে ইউরিয়ার চাহিদা ১১,১৮১ মেট্রিক টন হলেও বরাদ্দ মিলেছে ৯,৮৫০ টন; টিএসপির ৩,৭৭৮ টনের বিপরীতে ৩,৬০০ টন; ডিএপির ৭,২৫৫ টনের বিপরীতে ৬,৪১০ টন এবং এমওপির ৪,০৬৭ টনের বিপরীতে ৩,৭৯০ টন। অথচ বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যেখানে ইউরিয়ার চাহিদা দেখানো হয়েছিল ২৩,৪২০ মেট্রিক টন, সেখানে এবার চাষযোগ্য জমি (১৮,৭৩৪ হেক্টর) একই থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে কম দেখানো হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, বরাদ্দ খাত থেকে বড় অঙ্কের সার গোপনে চড়া দামে কালোবাজারে পাচার করতেই এই চাহিদার অঙ্কে গড়মিল করা হয়েছে।

মালিয়াট গ্রামের কৃষক সুমন হোসেন ক্ষোভের সাথে জানান, “আমার ৫০ কেজি সারের প্রয়োজন থাকলেও ডিলারের কাছে গেলে ১০ কেজির বেশি দিচ্ছে না। কিন্তু পাশের দোকানে দ্বিগুণ দাম দিলেই যত খুশি সার পাওয়া যাচ্ছে! আমরা রক্ত জল করে ফসল ফলাই, আর আমাদের বঞ্চিত করে অফিসাররা সিন্ডিকেট বানিয়ে ব্যবসা করছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সরকার সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার কথা বলছে এবং অন্যান্য ফসলে বাড়তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। তবে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রির তথ্য তিনি জানেন বলে স্বীকার করলেও কালোবাজারি ও সিন্ডিকেটের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, “কৃত্রিম সংকট বানিয়ে কোনো কর্মকর্তা, ডিলার বা অসাধু সিন্ডিকেট অনৈতিক সুবিধা নিলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আমন মৌসুমে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা, সারের কালোবাজারি রুখতে মোবাইল কোর্ট চালনা এবং অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষকেরা। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

তারাগঞ্জে অচেতন চালক উদ্ধার : ইজিবাইক নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী চক্র

যশোরে নাশকতার মামলায় বাঘারপাড়ার ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার

যশোরে ডাবল হ্যাটট্রিক মামলার আসামি ‘চোর মানিক’ গ্রেপ্তার

ঝিকরগাছায় পুবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন’: ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ

কৃতি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে পাশে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ

শৈলকুপায় ভোক্তা অধিকারের বাজার তদারকি : ২ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান কালীগঞ্জের নবাগত ওসি

ওয়ার্ড ও বাথরুম ঘুরে দেখলেন, হাসপাতালে দুপুরের খাবার খেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকতা ও ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানে আসিফ ইকবাল কাজলকে জাতীয় সম্মাননা

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *