কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহিষের ঘাস খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সামান্য বিরোধের জেরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পিতা ও পুত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় আহত দুজনকেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর তিনটার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামে এই অপ্রীতিকর ও মারামারির ঘটনাটি ঘটে।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আবু সালেহ (৩০) দীর্ঘদিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ অসুস্থ ছিলেন। সম্প্রতি কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি তাঁর বাবা নুরআলম হাওলাদারের কথামতো তাঁদের পালিত মহিষ মাঠে বেঁধে রেখে ঘাস কাটছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ, আসাদুল এবং চাচা হাবিব হাওলাদার ও আবুল বাশারসহ বেশ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁর ওপর চওড়া হন এবং অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করার জন্য পিতা নুরআলম হাওলাদার এগিয়ে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলায় পিতা ও পুত্র দুজনেই মারাত্মকভাবে আহত হন। ভুক্তভোগী আবু সালেহ এই ঘটনার তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আহত পিতা নুর আলম হাওলাদার গণমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছেলে মাঠে মহিষের ঘাস কাটতে গেলে তাঁর দুই ভাই ও ভাইয়ের ছেলেরা মিলে ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালায়। তিনি ঝগড়া থামাতে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের হাবিব হাওলাদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি মহিষের মাধ্যমে ধানের বীজ নষ্ট করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও পরবর্তীতে হাতাহাতি বা মারপিটের ঘটনা ঘটার কথা স্বীকার করেন। তবে তাঁর ভাই নুর আলমকে কেউ মারধর করেনি দাবি করে তিনি বলেন, আবু সালেহর নিজের হাতে থাকা ঘাস কাটার কাচির আঘাতেই মূলত তারা জখম হয়েছেন।
সমগ্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি প্রতিবেদক।
