বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, শৈশব ও কৈশোরের সোনালী স্মৃতি আর দীর্ঘ এক যুগের নিবিড় বন্ধুত্বকে নতুন করে ঝালিয়ে নিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পরম আনন্দে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের সামাজিক সংগঠন ‘গৌরবোজ্জ্বল ৯৯’-এর এক যুগ পূর্তি উৎসব ও পুনর্মিলনী।
‘মোরা এক হয়ে ফুটি শতদল’—এই হৃদ্যতাপূর্ণ স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কলাপাড়া পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ষপূর্তির শুভ লগ্নকে স্মরণীয় করে রাখতে বিগত তিন দিন ধরে কার্যালয় প্রাঙ্গণ মনোরম ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়, যা বন্ধুদের মাঝে এক অনাবিল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করা হয়। পরবর্তীতে সূচনা হয় প্রাণের আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও মুক্ত আলোচনা পর্ব। এ পর্বে গত ১২ বছরের পথচলায় সংগঠনের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড, উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং চড়াই-উৎরাইয়ের নানাবিধ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেন সদস্যরা। পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে সংগঠনটিকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত এবং গণমানুষের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিবেদিত রাখার সুনির্দিষ্ট মতামত প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এবারের আয়োজনের একটি অন্যতম নান্দনিক দিক ছিল সদস্যদের পরিবার-পরিজন এবং নতুন প্রজন্মের সন্তানদের পারস্পরিক পরিচয়পর্ব। দীর্ঘদিনের এই অকৃত্রিম পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে আগামী প্রজন্মের কাছে সুদৃঢ়ভাবে পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ উপস্থিত সবার মাঝে এক ভিন্নমাত্রার আনন্দ জোগায়।
স্মৃতিচারণ পর্বে অতীত দিনের মধুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ৯৯-এর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সুজন মৃধা, আব্দুল্লাহ আল নাসের, শামসুল আরেফিন শাকিল, মিঠুন পাল, মো. মাসুম বিল্লাহ এবং মো. শামীম গাজীসহ অনেকে।
আলোচনা পর্ব শেষে এক যুগ পূর্তির প্রীতি কেক কাটা হয়। এরপর সংগঠনের সদস্য ও শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো প্রাঙ্গণকে মুখরিত করে তোলে। সবশেষে এক প্রীতি নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আনন্দঘন এই মিলনমেলার জাঁকজমকপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও উদ্যোক্তারা জানান, ‘গৌরবোজ্জ্বল ৯৯’ কেবল একটি ব্যাচের পরিচিতি নয়; এটি পারস্পরিক গভীর সহমর্মিতা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক স্থায়ী স্ফুলিঙ্গ। এক যুগের এই পথচলাকে পাথেয় করে আগামীতে আরও বৃহত্তর পরিসরে সমাজের কল্যাণে এক হয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা। ছবি প্রতিবেদক।

