আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পঞ্চম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে একটি কওমি মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক (স্থানীয়ভাবে ‘বড় হুজুর’ হিসেবে পরিচিত) আবুল কালাম আজাদকে আটক করেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের অন্তর্গত চরপাড়া জামিয়া ইসলামীয়া কওমি মহিলা মাদরাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আটককৃত অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ চুয়াডাঙ্গার পার্শ্ববর্তী দামুড়হুদা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের অধিবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামিয়া ইসলামীয়া কওমি মহিলা মাদরাসাটিতে পুরুষ ও নারী শাখার পাশাপাশি আবাসিক এবং কিন্ডারগার্টেন বিভাগ পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক বিভাগে প্রায় শতাধিক কোমলমতি ছাত্রী পড়াশোনা করে। অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর স্ত্রীও উক্ত মাদরাসার মহিলা শাখায় শিক্ষকতা করেন এবং তাঁরা যৌথভাবে মাদরাসা চত্বরের আবাসনে বসবাস করে আসছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি পঞ্চম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রীকে ওই শিক্ষক ধর্ষণের শিকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে চরম জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল দুপুরে স্থানীয় ক্ষুব্ধ অধিবাসীরা ও অভিভাবকবৃন্দ একজোট হয়ে মাদরাসায় চড়াও হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই প্রদান করেন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জামজামি পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালান। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত রূপ ধারণ করলে আলমডাঙ্গা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাণী ইসরাইল জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। আসামিকে ইতোমধ্যে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

