স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জরুরি সেবার হটলাইন ‘৯৯৯’-এ ফোন দিয়ে স্বজনের বুদ্ধিমত্তায় প্রাণ নিয়ে ফিরলেও বিচার পেতে ৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারকে। অবশেষে বিজ্ঞ আদালতের কড়া নির্দেশে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বিজ্ঞ আদালতের দেওয়া লিখিত আদেশের ভিত্তিতে ত্রিশাল থানা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি রুজু করতে বাধ্য হয়।
মামলার নথিপত্রে উঠে আসা রোমহর্ষক বিবরণ অনুযায়ী, গত ১১ জুন ত্রিশাল উপজেলার বীররামপুর এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হককে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বলপ্রয়োগ করে তুলে নিয়ে যায় একদল সশস্ত্র লোক। উক্ত হামলায় তৎকালীন ত্রিশাল থানায় কর্মরত এসআই নাহিদ পারভেজের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে স্থানীয় সোহেল ও ফিরোজসহ আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী অংশ নেয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
বিজ্ঞাপন
তুলে নেওয়ার পর একটি চালিত অটোরিকশায় ঘুরিয়ে নাজমুলকে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরবর্তীতে একটি অজ্ঞাত কক্ষে দীর্ঘসময় আঁটকে রাখা হয়। সেখানে অস্ত্রের মুখে একাধিক সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া ছাড়াও ভুক্তভোগীর নিজ মোবাইল ফোন দিয়ে তাঁর স্বজনদের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে নাজমুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে নিরুপায় পরিবার ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে। ৯৯৯ থেকে বার্তা পেয়ে পুলিশ তৎপর হলে গভীর রাতে অপহৃত নাজমুলকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মাসের পর মাস পার হয়ে যায় কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে সুবিচারের আর্জি জানানো হয়। লিগ্যাল এইড থেকে অভিযুক্তদের হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হলেও এসআই নাহিদ তা উপেক্ষা করেন। সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনি প্রতিকার চেয়ে নালিশি আবেদন করেন নাজমুলের স্বজনেরা। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে স্থানীয় থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
বর্তমানে ঢাকাভিত্তিক একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন নির্যাতিত নাজমুল। ঘটনার পর এসআই নাহিদ পারভেজকে ত্রিশাল থেকে সরিয়ে ময়মনসিংহ সদরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হলেও এখনো পরিবারটি নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন।
সমগ্র বিষয়টিতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল হাসান জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভাগীয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপকর্মের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।
