মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত ১১ দলীয় জোটের সুবিশাল লংমার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করেছে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে লংমার্চটি কালীগঞ্জে এসে পৌঁছালে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
কালীগঞ্জে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা সবাই জানেন আমরা কেন রাজপথে নেমেছি। এই আন্দোলন কোনো একক দলের জন্য নয়, এ দাবি এ দেশের আপামর জনগণের। জনতার মৌলিক দাবি আদায় করতেই আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমরা রাজপথে নামতে চাইনি, কিন্তু সরকার জনগণকে অপমানিত করেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কথা দিচ্ছি জনগণের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না এবং প্রতিটি পদক্ষেপে আপনাদের পাশেই থাকব। প্রধান দাবিটি বাস্তবায়িত হলে বাকি ছয় দফাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্জিত হয়ে যাবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা গেলে দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অন্যায়-অবিচার থাকত না। সরকার অবিলম্বে এসব দাবি মেনে নিলে নতুন করে এক দফার প্রয়োজন হবে না, তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে চূড়ান্ত এক দফার ডাক দেওয়া হবে এবং সেই আন্দোলনে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধসহ সুনির্দিষ্ট সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোট এই লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে।
এর আগে লংমার্চের অগ্রভাগে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি শহীদ হাদি হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। একই সমাবেশে জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, চাটুকারদের পরামর্শে নয়, দেশ পরিচালনা করতে হবে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে, তবেই সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
