শহিদ জয় :
রক্তের সম্পর্কে তাঁরা একে অপরের চাচা ও ভাইপো। তবে সবুজ ঘাসের ফুটবল মাঠে নামতেই উবে গেল সব আত্মীয়তার খাতির! ৯০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পারিবারিক সম্পর্কের মায়াদয়া ভুলে মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেন উভয় দলের খেলোয়াড়রা। শেষ পর্যন্ত চাচাদের জালে একের পর এক ৭টি গোল জমা করে বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ভাইপোরা। আর অভিনব এ জয়ের ট্রফি হিসেবে বিজয়ী ভাইপোদের হাতে শোভা পেল দুটি দৃষ্টিনন্দন রাজহাঁস। তবে এতে এতটুকু মন খারাপ হয়নি পরাজিত চাচাদের, কারণ আপনজনের কাছে হারের মধ্যেও ছিল এক অনাবিল স্বস্তি ও আনন্দের ছোঁয়া।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে যশোর সদর উপজেলার মঠবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘চাচা একাদশ’ বনাম ‘ভাইপো একাদশ’-এর মধ্যকার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ফুটবল দ্বৈরথ উপভোগ করতে ভোর থেকেই মাঠে ভিড় জমান স্থানীয় শত শত বাসিন্দা। সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা একটি গ্রামীণ উৎসবে রূপ নেয়।
রেফারি বাঁশি বাজানোর পরপরই খেলার রূপ বদলে যায়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পশরা সাজিয়ে বসে তরুণদের দল ‘ভাইপো একাদশ’। তাঁদের তোপ সামলাতে গিয়ে একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়ে অভিজ্ঞ ‘চাচা একাদশ’। চাচারা কয়েকবার পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও তরুণ ভাইপোদের গতির সাথে পেরে ওঠেননি। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ৭-১ ব্যবধানে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভাইপোরা।
বিজ্ঞাপন
তবে এই প্রীতি ম্যাচের আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে ম্যাচের গোলসংখ্যা ছাড়িয়ে। বিজয়ী ‘ভাইপো একাদশ’-এর অধিনায়কের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় দুটি তাজা রাজহাঁস এবং রানার্সআপ ‘চাচা একাদশ’-এর জন্য রাখা হয় একটি রাজহাঁস। ঐতিহ্যবাহী কাপ বা ট্রফির পরিবর্তে রাজহাঁস উপহার দেওয়ার এমন ব্যতিক্রমী ভাবনা গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মাঝে বিপুল কৌতূহল ও আনন্দের খোরাক জোগায়।
গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, প্রযুক্তির যুগে এখন গ্রামের মাঠে খেলার আয়োজন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। এমন উদ্যোগ তরুণদের খেলাধুলায় ফেরানোর পাশাপাশি গ্রাম্য সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতেই তাঁদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস এবং আগামীতেও এ ধরনের প্রীতি ম্যাচের ধারা বজায় রাখা হবে।
স্কোরবোর্ডে ৭-১ ব্যবধান লেখা হলেও দিনশেষে বিজয়ী হয়েছেন সবাই। বিজয়ের আনন্দ নিয়ে দুটি রাজহাঁস বগলদাবা করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন ভাইপোরা, আর ভাতিজাদের এমন কৃতিত্বে গর্বের হাসি হেসে তাঁদের সঙ্গী হয়েছেন হারা চাচারাও। ছবি সংগৃহীত।
