স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বাঘারপাড়ায় সরকারি বিধি অমান্য করে এক নির্ধারিত বাজার থেকে অন্য বাজারে সার পাচার ও স্থানান্তরের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে অবৈধভাবে পরিবহণকৃত ৩৮ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করে তা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার দশপাখিয়া এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভূপালী সরকার।
বিজ্ঞাপন
জব্দ করা ৩৮ বস্তা সারের মধ্যে ২৩ বস্তা ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) এবং ১৫ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধলগ্রাম বাজারের অনুমোদিত সার ব্যবসায়ী সাহেব কুন্ডু একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানযোগে নারিকেলবাড়িয়া বাজারের অপর সার ব্যবসায়ী উজ্জ্বল সাহার কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সারের বস্তা পাঠাচ্ছিলেন। সারবাহী ভ্যানটি দশপাখিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা গাড়িটি আটকে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে ইউএনও ভূপালী সরকার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সত্যতা যাচাইপূর্বক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সার ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ক্রেতা উজ্জ্বল সাহাকে ১৫ হাজার টাকা এবং মূল বিক্রেতা সাহেব কুন্ডুকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
পরবর্তীতে জব্দকৃত সকল সার প্রকাশ্য উপায়ে স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাাগারে জমা করা হয়।
অভিযান শেষে ইউএনও ভূপালী সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অবৈধ মজুত, অননুমোদিত পরিবহন কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের দুর্ভোগে ফেলার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কৃষক স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এমন নজরদারি ও ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।” ছবি সংগৃহীত।

