স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুমিল্লার চাঞ্চল্যকর কিশোরী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ চক্রান্ত ও প্রতারণার গল্প। মামলার প্রধান অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর ভুয়া ‘ফেসবুক বন্ধু’ রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে গ্রেপ্তারের পর কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ছনখোলা এলাকার বাসিন্দা মনির আহমেদের ছেলে রাজু নিজেকে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলের মালিকের ছেলে হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাজমিনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সখ্য গড়ে তোলে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রলোভন দেখিয়ে তাজমিনকে কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
এর আগে গত রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার লুলুয়া রিসোর্টের সামনে অভিযান চালিয়ে রাজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে তাকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় নিখোঁজ হয় তাজমিন। পরদিন সকালে ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে ডিবির অনুসন্ধানে রাজুর সংশ্লিষ্টতা ধরা পড়ে। এ ঘটনায় পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচনে তাজমিনের পরনের পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ছবি সংগৃহীত।

