স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি এবার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে প্রকাশিত ডেঙ্গু ও হাম সংক্রান্ত পৃথক দুটি দৈনিক তথ্য বিবরণী (প্রতিবেদন) খতিয়ে দেখে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির চিত্র:
বিজ্ঞাপন
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি হতে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১ জনে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ জন, যাদের দুজনই ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
উপজেলাওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ৪৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছেন অভয়নগর উপজেলায়। এছাড়া যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১৬২ জন, কেশবপুরে ১২১ জন, শার্শায় ৬৩ জন, বাঘারপাড়ায় ৬০ জন, মণিরামপুরে ৫০ জন, ঝিকরগাছায় ৩৪ জন এবং চৌগাছায় ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৮৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে অভয়নগরে ২৬ জন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ১৯ জন রোগী ভর্তি আছেন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯১০ জন।
হাম রোগের সর্বশেষ তথ্য:
এদিকে জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. শামসুল ফালাক স্বাক্ষরিত হাম রোগের দৈনিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরে ৮৭৭ জন সন্দেহজনক হামের রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষা শেষে সর্বমোট ১১৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৭ জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৭ জন হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা জানান, ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। একই সাথেবাসাবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের সঠিক সময়ে হামের টিকা দেওয়ার জন্য জেলাবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

