মাগুরায় পুলিশকে লাঞ্ছিত করা সেই নয়ন অবশেষে গ্রেপ্তার

মাগুরায় পুলিশকে লাঞ্ছিত করা সেই নয়ন অবশেষে গ্রেপ্তার

মাগুরা প্রতিনিধি:

মাগুরায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে শারীরিক নিগ্রহ ও চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ভায়না মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়ন। গতকাল মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেও জনমনে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের মুখে শনিবার বিকেলে সদর থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে নিজ জিম্মায় নেয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত সাবেক এই ছাত্রদল নেতার গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট মামলা রজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন মাগুরা জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের কনস্টেবল পদে কর্মরত। গত শুক্রবার বিকেলে শহরের ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত জুলাই-আগস্ট শহীদ বেদিতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সহকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে প্রাইভেটকার চালিয়ে আসা নাইমুজ্জামান নয়ন তাঁকে সাইড দেওয়ার জন্য বারবার হর্ন বাজান। ইমরানের মোটরসাইকেলটি কিছুটা দূরে থামলে নয়ন গাড়ি থেকে নেমে বিলম্বের কারণ জানতে চান। স্থানস্বল্পতার কথা ইমরান জানালে উভয়ের মধ্যে বাক্যবিনিময় হয়।

ঐ মুহূর্তে পথ দিয়ে যাওয়া মাগুরা সদর থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন ও শরিফ হোসেন মধ্যস্থতা করেন এবং তিন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেলে ভায়নার দিকে রওয়ানা দেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়ন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর প্রাইভেটকার দিয়ে ভায়না এলাকার অদূরে পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেলের গতিপথ রোধ করেন। সেখানে আবারও কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নয়ন সজোরে কনস্টেবল ইমরানের মাথায় আঘাত ও চড়-থাপ্পড় মারেন, যা একই সময়ে মুঠোফোনে ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে ঘটনার দৃশ্য ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর থানা-পুলিশ নয়নকে সাময়িক সময়ের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে রাতে মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল থানায় উপস্থিত হয়ে বিষয়টিকে সাধারণ ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ হিসেবে আখ্যা দিলে পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় ও অপরাধের বিচারে কঠোর অবস্থান নিয়ে শনিবার তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি ভিডিও থেকে সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *