মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক দুই যুবকের স্বজনরা পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে বিবাদে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত ডোপ টেস্টে তা প্রমাণিত হয়েছে। পরে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ওই দুই মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করার পর তাদের শরীরে গাঁজা, ইয়াবা ও ঘুমের বড়ি সেবনের প্রমাণ মেলে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কালীগঞ্জ শহরের কলেজপাড়ার আজগর আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম রাব্বি (৩০) এবং ঢাকালে পাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের কলেজপাড়া এলাকা থেকে রাব্বি ও সাদ্দামকে আটক করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে গতকাল মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে তারা মাদকসেবী নন এবং পুলিশ তাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে দাবি করে পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ায়।
বিজ্ঞাপন
স্বজনদের চ্যালেঞ্জের মুখে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ডোপ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত দুজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করানো হলে ফল পজিটিভ আসে।
পরবর্তীতে বিকেলে আসামিদের ঝিনাইদহ বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী রায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৬ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সিরাজুল ইসলাম রাব্বীকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই মামলার অপর আসামি সাদ্দাম হোসেনকে ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, আটক দুই মাদকসেবীর পরিবারের দাবির মুখে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়। টেস্টে মাদক পজিটিভ আসায় বিজ্ঞ আদালত তাদের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মাদকের হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে এ ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ছবি সংগৃহীত।
