স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৩ নভেম্বর ২০২৬
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পদ্মপুকুর এলাকার ‘রওজাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা’র ১০ বছর বয়সী যমজ দুই কন্যা শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির নিবিড় অনুসন্ধানে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম সাইফুল্লাহ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বা অন্য কারও পক্ষ থেকে কোনো দাপ্তরিক বা লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। তবে অতিসম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সংবেদনশীল খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট এক তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অলীয়ার রহমান ঘটনার প্রকৃত সত্যতা তুলে ধরে জানান, “অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে অসাবধানতাবশত শিশুটির পায়ে পেরেক ফোটে। ওই দিন বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটির মা ক্ষুব্ধ হন। এ সময় স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র হুজুরকে ‘টাইট দিতে’ ও বিপদে ফেলতে ইউএনও কার্যালয়ে যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগ সাজানোর পরামর্শ দেয়। তদন্তকালে মেয়েটির মা নিজের ভুল বুঝতে পেরে লিখিত জবানবন্দিতে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।”
শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্ত চলাকালে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার হেফজ সম্পন্ন করা প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কারোর কাছ থেকেই মাদ্রাসা কিংবা সেখানকার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক বক্তব্য পাওয়া যায়নি; বরং প্রতিষ্ঠানটির সুশৃঙ্খল পরিবেশের প্রশংসাই এসেছে।
মাদ্রাসার পাঠদান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, সম্পূর্ণ ধর্মীয় অনুশাসন ও পর্দার আড়াল থেকে অত্র মাদ্রাসার নির্বাহী পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকেন। সরাসরি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের সুযোগ সেখানে নেই।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, “আমার ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মাদ্রাসার শিক্ষা পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালিয়েছিল। প্রশাসনিক তদন্তে মহান আল্লাহর রহমতে সত্য উন্মোচিত হয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।
