রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও ভিটা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বসতবাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র ভাঙচুর, প্রাণনাশের হুমকি, ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার কোটচাঁদপুর থানাধীন চান্দাপাড়া গ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনায় চরম আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এ বিষয়ে সুবিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ শিমুল হোসেন (৩৫)।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একই এলাকার মৃত সমীর উদ্দীন খানের দুই ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও হাসানুজ্জামান (৪৫)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে শিমুল হোসেনের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। এ সময় শিমুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে শিমুল হোসেনকে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক নীলাফোলা জখম করে। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর স্ত্রীকেও লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা ঘরের দরজা, জানালা ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে।
লুটপাটের বিবরণ দিয়ে শিমুল হোসেন জানান, তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি ঘরে রক্ষিত নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্বজনদের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী শিমুল হোসেন আরও জানান, পূর্বেও তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা চালায় চক্রটি। যার প্রেক্ষিতে আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা (সি.আর. কোট-ননপ্রসিডিউর-৩৭/২৪) চলমান রয়েছে। ওই চলমান মামলাটি প্রত্যাহার করা এবং দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষ।
বর্তমানে অভিযুক্তদের প্রতিনিয়ত হুমকি ও মহড়াতে পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ বা তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটির সত্যতা যাচাই ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তদন্ত চলছে। ছবি সংগৃহীত।
