স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম ও আইনি বিধান অনুযায়ী সংগৃহীত নগদ ‘এন এন ফি’ লেনদেনকে ‘ঘুস’ আখ্যা দিয়ে সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ, ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন যশোরের সাধারণ দলিল লেখকেরা।
বিজ্ঞাপন
উক্ত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারি আইনি কাঠামোর বিষয়ে অজ্ঞতার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তাঁরা।
বিজ্ঞাপন
দলিল লেখকেরা প্রকৃত সত্য তুলে ধরে স্পষ্ট ভাষায় জানান, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে প্রদর্শিত ৩৬০ টাকার নগদ লেনদেনটি কোনো অবৈধ অর্থ বা অবৈধ ঘুস নয়। এটি মূলত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধন অনুবিভাগের প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ‘এন এন ফি’ (নকলনবিশ ফি)।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত দলিলের মূল বা বালাম বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠা অনুলিপি তৈরির জন্য সরকার নির্ধারিত হারে নকলনবিশদের এই আইনসম্মত পারিশ্রমিক বা ফি প্রদান করতে হয়, যা যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনেই নিয়মিত আদায় করা হয়ে থাকে।
ঘটনার নেপথ্যে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদী দলিল লেখকেরা বলেন, “কোনো অসৎ লেনদেন বা ঘুস কখনো দিনের আলোয় সবার সামনে কিংবা ক্যাজুয়ালি দেওয়া হয় না—এটি ধ্রুব সত্য। প্রচারিত ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সাধারণ সরকারি ফি অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে প্রকাশ্যে লেনদেন করা হচ্ছে। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চক্রান্ত করে সরকারি এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করে বিভ্রান্তি ছড়াতে এটিকে ‘ঘুস’ বানিয়ে প্রচার করেছে।”
তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইনানুগ কার্যক্রমকে এভাবে কলঙ্কিত করার ফলে আমাদের পেশাগত ভাবমূর্তি ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সাথে সাধারণ জনগণের মনেও বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।”
যশোরের সাধারণ দলিল লেখকেরা এ জাতীয় চক্রান্তমূলক ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালকে অবিলম্বে এই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রত্যাহার করে সঠিক সংবাদ পরিবেশনের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মুখরোচক গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সম্মানিত সাধারণ গ্রাহক ও সেবাগ্রহীতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


