স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সারথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুকুনউদ্দৌলাহর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী নানা শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। গত বছর আজকের এই সন্ধ্যায় ঊনসত্তর বছর বয়সে যশোরের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কলমযোদ্ধা এই প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাসহ বিপুল সংখ্যক অনুরাগী রেখে গেছেন। মহীয়সী এই গুণী মানুষের প্রথম প্রয়াণ তিথিতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও এতিম শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় কারবালা কবরস্থানে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে মুক্তিযোদ্ধা পাঠাগার।
বিজ্ঞাপন
স্মরণীয় এই সংবাদ ব্যক্তিত্ব ১৯৫৬ সালের বসন্তে ভারতের ২৪ পরগনার কলিঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে নওগাঁ সরকারি কেডি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শৈশবেই দেশমাতৃকার টানে তিনি সীমানা পেরিয়ে ভারতের শিলিগুড়িতে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সরাসরি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্বাধীনতার পর যশোর সরকারি সিটি কলেজ ও সরকারি এমএম কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি সাংবাদিকতাকেই নিজের জীবনের একমাত্র ব্রত হিসেবে বেছে নেন।
বিজ্ঞাপন
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন সংবাদপত্র দৈনিক সংবাদের যশোর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় কলাম গ্রাম-গ্রামান্তরে পাঠকমহলে বিপুল প্রশংসিত ছিল। তিনি পাক্ষিক যশোরের কাগজের প্রতিষ্ঠাতা এবং দৈনিক কল্যাণের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি দৈনিক স্ফুলিঙ্গ, দৈনিক ঠিকানা, দৈনিক রানার ও দৈনিক কল্যাণের বার্তা সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। চ্যানেল আই ও রেডিও টুডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই কর্মবীর।
সাংবাদিকতায় প্রসামান্য অবদানের জন্য তিনি বজলুর রহমান স্মৃতিপদক, আইডিই পুরস্কার, যশোর শিল্পী গোষ্ঠী পদক ও জ্ঞানমেলা পদক লাভ করেন। সাহসের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি আকর গ্রন্থ রচনা করেছেন। যার মধ্যে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে যশোর, আমার কৈশোর আমার মুক্তিযুদ্ধ, দেশ জনতার খণ্ডচিত্র এবং যশোর রোড ১৯৭১ উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির জটিলতায় ভুগে ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে যশোরে ফেরার পরদিনই তিনি চিরতরে চোখ বোনেন। যশোরের প্রথিতযশা এই সাংবাদিকের বিদায়ে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা আজ এক বছর পরও একইভাবে অনুভূত হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

