শহিদ জয় :
তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
যশোরে পৃথক দুটি ফৌজদারি মামলায় এক মাদক কারবারিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠন ‘মৃণাল বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আনিচুর রহমান শেখ ওরফে আনিচকে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান এবং তৃতীয় আদালতের বিচারক আইরিন পারভিন নিজ নিজ খাসকামরায় পৃথকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় উভয় মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আদালত সূত্রে জানা যায়, ৩০০ গ্রাম বিপুল পরিমাণ মারাত্মক মাদকদ্রব্য হেরোইন অবৈধ নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে আশিকুর রহমান ওরফে বাবু (২৬) নামের এক মাদক কারবারিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকালের দিকে যশোর শহরের ব্যস্ততম চাঁচড়া ডালমিল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঐ সময় বাবু তার পরনের লুঙ্গির পেছনে লাল স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো পলিথিনের ভেতর অত্যন্ত কৌশলে ৩০০ গ্রাম হেরোইন লুকিয়ে রেখেছিলেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল প্রায় দুই লাখ টাকা।
ঘটনার পর চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ বায়েজীদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এই সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। রায়ে একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গুলি উদ্ধারের ভিন্ন এক মামলায় সশ্রম ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন আনিচুর রহমান শেখ (৩৬)। তিনি কেশবপুর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল শেখ গাইনের পুত্র এবং এলাকার তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কেশবপুর থানা-পুলিশ কাশিমপুর ছোট বিল এলাকার একটি মাছের ঘেরের টংঘরে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় আনিচকে ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে কোমরে গোঁজা অবস্থায় একটি দেশীয় পাইপগান এবং পরনের লুঙ্গির কোঁচ থেকে এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়।
এই ঘটনায় তৎকালীন এসআই দীপক কুমার দত্ত বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে কেশবপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসআই রেফাতুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ বিচারে আদালত ১৯(এ) ধারায় ১০ বছর এবং ১৯(এফ) ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আইন অনুযায়ী আসামির সাজা দুটি ধারাবাহিকভাবে একটির পর একটি কার্যকর হবে, ফলে তাকে মোট ১৭ বছর সাজা ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আনিচুরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। ছবি সংগৃহীত।
