বাগেরহাট প্রতিনিধি :
তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির নেপথ্যে সক্রিয় ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মতো এবারও দেশের আপামর জনতা এসব অপশক্তির ষড়যন্ত্রকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে এবং তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে বাগেরহাটে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাজের গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত এই সরকার দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তবে পরাজিত শক্তি ও ষড়যন্ত্রকারীরা এই অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তারা দেশের নানা প্রান্তে কলকারখানায় বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর চালিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, মিল-কারখানাগুলো কোনো ব্যক্তিবিশেষের নয়, বরং এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের অমূল্য সম্পদ। এসব কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবার আগে ধ্বংস হবে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ ও তাদের সন্তানদের জীবন।
শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান জানান, শ্রমিক ভাই-বোনদের বকেয়া বা নতুন দাবি-দাওয়াগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যে একটি নতুন ‘মজুরি বোর্ড’ গঠন করা হয়েছে। বোর্ড তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি ঘোষণা করা হবে, যাতে তারা পরিবার নিয়ে আরও স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারেন।
বিগত দেড় দশকের দুঃশাসন ও লুণ্ঠনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছিল এবং দেশের কোনো উন্নতি করতে পারেনি—জনগণের তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। আজ তারা প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত পার থেকে গোপন বৈঠক ও নানা কায়দায় কলকাঠি নেড়ে দেশে নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কিন্তু দেশের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ ও শ্রমিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমান সরকার সব শক্তি দিয়ে এই অপচেষ্টা চিরতরে রুখে দেবে।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় দক্ষিণ জনপদের খুলনা অঞ্চল দেশের অন্যতম প্রধান ও গৌরবোজ্জ্বল শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি ও বেসরকারি সকল মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে, যার মূল লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর এলাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিআরসিসি)’ এর মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালী মোড়ের পথসভা শেষে তিনি পরম শ্রদ্ধার সাথে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করেন এবং পরবর্তীতে খুলনায় পৌঁছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ছবি সংগৃহীত।
