স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মোটরসাইকেল মহড়া থেকে পুলিশের টহল ভ্যান লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মো. এনামুল নামে পুলিশের এক গাড়িচালক কনস্টেবল মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। উক্ত নাশকতামূলক ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দর মহাসড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও আর্মি গলফ ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বনানীর দিক থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে অভিমুখে এগোচ্ছিল। মিছিলটি যখন আর্মি গলফ ক্লাব ও কুর্মিটোলা হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের ‘গলফ ক্লাব-৮৩’ নম্বরের একটি টহল গাড়ি লক্ষ্য করে তারা একটি ককটেল ছুড়ে মারে।
বিকট শব্দে ককটেলটি বিস্ফোরিত হলে গাড়িতে থাকা চালক কনস্টেবল এনামুলের বাম চোখে আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে তাকে আগারগাঁওস্থ জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
ওসি আরও জানান, ককটেল হামলার পরপরই পুলিশ আশপাশের এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়েছে। আটককৃতদের পরিচয় যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপ এবং প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের সরাসরি নির্দেশনায় এই ঝটিকা মোটরসাইকেল মহড়াটি বের করা হয়েছিল। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুজেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করতে এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
