স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬
দেশের বাস্কেটবল অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদান এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটিকে টিকিয়ে রাখতে নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের (বিবিএফ) নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দেশের তৃণমূল বাস্কেটবলের প্রাণপুরুষ মো. রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল। তাঁর এই মর্যাদাপূর্ণ অর্জনে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ করে যশোরসহ সমগ্র অঞ্চলে আনন্দের জোয়ার বইছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের বাস্কেটবল খেলায় এক নতুন ও গতিশীল অধ্যায়ের সূচনা হবে।
ব্যক্তিগত ও বর্ণাঢ্য ক্রীড়া জীবনের সুদীর্ঘ ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল কেবল একজন সংগঠকই নন, বরং মাঠের লড়াকু খেলোয়াড় হিসেবেও তাঁর এক সুদীর্ঘ অতীত রয়েছে। ১৯৮৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে খেলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশিক্ষক হিসেবে।
বিজ্ঞাপন
সাংগঠনিক দক্ষতার ক্ষেত্রে তিনি ২০০৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বাস্কেটবল পরিষদের সম্পাদক এবং ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হ্যান্ডবল পরিষদের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পেশাগত ও প্রশিক্ষক দক্ষতার ক্ষেত্রে ২০০৫ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক কর্তৃক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের একজন দক্ষ রেফারি ও প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বাস্কেটবল প্রশিক্ষক হিসেবেও সুনামের সাথে কাজ করেছেন। দেশের উদীয়মান তরুণ ও কিশোরদের বাস্কেটবলে পারদর্শী করে তুলতে ২০১৫ সাল থেকে তিনি যশোর ও ঢাকায় ‘এপিক বাস্কেটবল একাডেমি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতীয় পর্যায়েও বাস্কেটবল ফেডারেশনের সাথে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের (বিবিএফ) কার্যনির্বাহী সদস্য এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশ জাতীয় বাস্কেটবল দলের প্রশিক্ষক, ম্যানেজার ও অফিশিয়াল কর্মকর্তা হিসেবে বহুবার সফলতার সাথে বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের লাল-সবুজ পতাকা সমুন্নত রেখেছেন। অসংখ্য জাতীয় ও স্থানীয় টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করার নেপথ্যেও তাঁর প্রধান ভূমিকা রয়েছে।
তাঁর এই দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্রীড়াসাধনা এবং অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সময় মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ) যশোর জেলা শাখা কর্তৃক তাঁকে ‘বর্ষসেরা ক্রীড়া সংগঠক (২০২৩)’ হিসেবে ভূষিত করা হয়।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই ব্রতকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে বাস্কেটবলকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁর অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত। বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের নতুন এই কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের বাস্কেটবল খেলার উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও প্রসারে এক নতুন ও যুগান্তকারী গতির সঞ্চার করবে বলে ক্রীড়াপ্রেমী ও সংশ্লিষ্টরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। ছবি সংগৃহীত।
