চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় দায়েরকৃত পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম প্রধান আসামি মো. মারুফ হোসেনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে দিবাগত রাতে দর্শনা থানাধীন উজলপুর গ্রামে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানাধীন জয়নগর কাস্টমপাড়া এলাকার আব্দুস সামাদ ওরফে জাম্বুর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মো. মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মোহাম্মদ নুরুল্লাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। দামুড়হুদা মডেল থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইনস্পেক্টর মো. মাহাবুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গত ২৪ অক্টোবর রাত ২টার দিকে দর্শনার উজলপুর গ্রামে জনৈক শাহাবুলের বাড়ির সামনে থেকে অভিযুক্ত মারুফ হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাত ৮টার দিকে দামুড়হুদা মডেল থানায় কর্মরত সাব-ইনস্পেক্টর (নিঃ) মো. শামসুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নিয়মিত নৈশ টহল ডিউটিতে বের হন। ওই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে দামুড়হুদা থানাধীন লোকনাথপুর গ্রামে ফায়ার সার্ভিসের উত্তর পাশে ছোট পোল নামক স্থানে হাইওয়ে পাকা রাস্তার ওপর দায়িত্ব পালনকালে লোকনাথপুর থেকে দর্শনাগামী একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলকে বেপরোয়া গতিতে আসতে দেখে পুলিশ সদস্যরা থামার সংকেত দেন।
এ সময় মোটরসাইকেল চালক সংকেত অমান্য করে অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে পালানোর চেষ্টা করেন এবং কর্তব্যরত কনস্টেবল (৮১৯) মো. আলমগীর হোসেনকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। ধাক্কায় ওই পুলিশ সদস্য মাথা, চোখ, পিঠ ও পায়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরবর্তীতে আক্রমণকারী তাঁর ব্যবহৃত লাল-কালো রঙের হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
সহকর্মীরা দ্রুত আহত পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি গত ২৩ অক্টোবর রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে বিধি মোতাবেক জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ৩০৭ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা (নং-১৪, তারিখ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬) রুজু করা হয়।
পুলিশের রেকর্ডপত্র থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মারুফ হোসেন একজন তালিকাভুক্ত ও অভ্যস্ত অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানা এবং ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারায় মোট ৯টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

