বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
মা ইলিশের নিরাপদ ও বাধাহীন প্রজনন নিশ্চিতকরণে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) মধ্যরাত থেকে সাগর ও দেশের সব নদীতে টানা ২২ দিনের ইলিশ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় নদী থেকে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ স্থানীয় ঘাটে ট্রলার নিয়ে ফিরতে শুরু করেছেন উপকূলের হাজার হাজার জেলে।
প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। মা ইলিশ যাতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে—সে লক্ষ্যেই সরকার প্রতি বছরের মতো এবারও এই অবরোধ আরোপ করেছে।
বিজ্ঞাপন
তবে শেষ মুহূর্তের ইলিশ আহরণ শেষে খালি হাতে তীরে ফেরা জেলেরা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। জেলেদের অভিযোগ, এ বছর ইলিশের মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত মাছ মেলেনি, এমনকি বর্তমান সময়েও ধরা পড়া বেশিরভাগ ইলিশের পেটে ডিম আসার পূর্ণাঙ্গ লক্ষণ দেখা যায়নি। এমন অবস্থায় তড়িঘড়ি নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁরা ঋণের বোঝা ও আর্থিক লোকসানে পিষ্ট হচ্ছেন।
তারপরও জাতীয় সম্পদ ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকারের এই নির্দেশ মেনে নিয়ে সব ধরনের মৎস্য আহরণ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলেরা। তবে তাঁদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার এই সুযোগে ভারতীয় ও প্রতিবেশী দেশের ট্রলার যেন বাংলাদেশের জলসীমানায় ঢুকে অবৈধভাবে মাছ লুট করতে না পারে, সেজন্য কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই ২২ দিন অন্নসংস্থানের জন্য প্রদত্ত সরকারি খাদ্য সহায়তার (ভিজিএফ চাল) পরিমাণ বাড়িয়ে প্রকৃত নিবন্ধিত জেলেদের তালিকা ধরে তা দ্রুত বিতরণের জোর দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে প্রশাসন সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকারের এই আদেশ অমান্য করে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কেউ ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত বা বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাগরে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।
