স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের ঐতিহ্যবাহী ঝিকরগাছা অংশের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়ানিবিড় গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের খুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গাছের কান্ডে বেপরোয়াভাবে পেরেক ঠুকে এবং লোহার তার পেঁচিয়ে ধাতব সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানোর ফলে একদিকে যেমন মহাসড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে পড়ছে শতবর্ষী ও ঐতিহাসিক বৃক্ষরাজি।
সরেজমিনে ঝিকরগাছা উপজেলা মোড়, হসপিটাল রোড, থানার মোড়, হাজিরালী মহিলা কলেজ মোড়, চারাতলা ও গদখালী বাজারসহ নবীবনগর এবং নাভারন পুরাতন বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কের উভয় পাশের গাছের গাছে পেরেক ও তার দিয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল, ক্লিনিক, রাজনৈতিক সংগঠন, কোচিং সেন্টার এমনকি ঘটকের বিজ্ঞাপনী পোস্টার-ফেস্টুন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। একটি ব্যানার পুরোনো হলে তা না সরিয়ে তার ওপরই নতুন ফেস্টুন সাঁটানো হচ্ছে, আবার অনেক গাছে ঝুলে আছে একাধিক বিজ্ঞাপন।
পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠোকার কারণে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তা দিয়ে সহজেই বর্ষার পানি, ক্ষতিকারক জীবাণু ও অণুজীব ভেতরে প্রবেশ করে। এতে গাছ ভেতর থেকে পচে গিয়ে ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি থমকে যায় এবং অকালেই ডালপালা শুকিয়ে বৃক্ষটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। ঐতিহাসিক যশোর-বেনাপোল সড়কের এসব গাছ সংরক্ষণে ২০১৬ সালেও সোচ্চার হয়েছিল সচেতন মহল।
বিজ্ঞাপন
অথচ সদ্য প্রণীত ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী গণপরিসরের অংশ হিসেবে সড়কের পাশের গাছও বিশেষ সুরক্ষার আওতাভুক্ত। উক্ত আইনের ৯(১৩) ধারা মোতাবেক বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যতিরেকে গাছে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তু ঠুকে ক্ষতিসাধন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই আইনের ১০(৩) ধারায় এ অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের সুস্পষ্ট আইনি বিধান রয়েছে, যা গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।
প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত ডেপুটি রেঞ্জার আরিফুল আলম জানান, গাছে পেরেক দেখলে তাৎক্ষণিক তা তুলে ফেলার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। জনবল সংকটের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই উপজেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সভা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে যশোর জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এম. এ. মনজু জানান, মহাসড়কের পাশের এসব গাছের দেখভালের মূল দায়িত্ব জেলা পরিষদের হলেও প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তারা সরাসরি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারছেন না। তবে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাইলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অর্থদণ্ড ও উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারেন।
এ ব্যাপারে ঝিকরগাছার নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক শপথ বৈরাগী জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে আসায় বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। খুব শিগগিরই পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পূর্বের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গাছে পেরেক ঠোকা ও সাইনবোর্ড ঝোলানো বন্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।ছবি সংগৃহীত।
