স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
কম্বোডিয়াকেন্দ্রিক চায়নিজ এক প্রতারক চক্রের ফাঁদে ফেলে কম দামে অনলাইনে বিমান টিকিট ক্রয়-বিক্রয়ের লোভ দেখিয়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রকৌশলীর কাছ থেকে সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রকৌশলী এন. সায়েম উদ্দীন আহমেদ অনলাইনে বিমান টিকিট কেনাবেচার নামে প্রতারণার শিকার হয়ে মোট চৌত্রিশ লাখ চুয়ান্ন হাজার দুইশত ছিয়াশি টাকা হারান। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীকালে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান।
তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংক এবং বিকাশের লেনদেন বিশ্লেষণ ও গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই খুলনা অঞ্চলে টানা অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন খুলনার হরিণটানা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মোঃ মেহেদী হাসান সোহাগ, তার দেওয়া তথ্যে খালিশপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার আবুল হাসান নাঈম এবং আড়ংঘাটা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার সুমাইয়া খাতুন শান্তা। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা সবাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
বিজ্ঞাপন
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রধান আসামি মোঃ মেহেদী হাসান সোহাগ কম্বোডিয়ায় গিয়ে এক চায়নিজ প্রতারক চক্রের কাছে তিন হাজার ডলারে বিক্রি হয়। চক্রটি তাকে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক প্রতারণা কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়। সোহাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রূপসী নারীদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলে। সেটির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বার্তালাপের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের নম্বর সংগ্রহ করতো। একইভাবে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত করে কম দামে বিমান টিকিট কেনাবেচার লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়।
প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে ভুক্তভোগী প্রথমে একটি দেশীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আট লাখ উনসাত্তর হাজার ছয়শত একান্ন টাকা পাঠান। পরবর্তীতে তিনি টাকা তুলে নিতে চাইলে তাকে লাভসহ এগারো লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো নিরাপত্তা জামানত বাবদ অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ জমা, বিশেষ চ্যানেলে অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিপত্র সচ্ছতার অজুহাতে দফায় দফায় মোট চৌত্রিশ লাখ চুয়ান্ন হাজার দুইশত ছিয়াশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ওই টাকা আসামি সুমাইয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠান। পরবর্তীতে সুমাইয়া ও তার সহযোগী আবুল হাসান নাঈম সেই টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ও অন্যান্য মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় পাচার করে। এ কাজের বিনিময়ে তারা প্রতি লাখে এক হাজার টাকা করে কমিশন পেতো। গ্রেপ্তারকালে আবুল হাসান নাঈমের কাছ থেকে সুমাইয়ার তিনটি ব্যাংক কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
