স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
নরসিংদীর পলাশে দুবাই প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও সন্তান জন্মদানের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী ভাতিজা অপূর্ব দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। গ্রেপ্তারের পর আসামী বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর নরসিংদী পিবিআই-এর একটি দল পলাশ থানাধীন পণ্ডিতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর আসামী অপূর্ব দাসকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পলাশ উপজেলার পণ্ডিতপাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসী হরিদাসের সাথে ভিকটিম তিথি রানী দাসের বিয়ে হয়। হরিদাস বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে প্রতিবেশী চাচাতো ভাতিজা অপূর্ব দাস তার চাচীকে নানা কাজে সহযোগিতা করতেন। এই সুবাদে তাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে ভিকটিম গর্ভবতী হয়ে পড়লে সংবাদ পেয়ে গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর হরিদাস দেশে ফেরেন। ১৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন ভিকটিমের গর্ভে আট সপ্তাহের সন্তান রয়েছে। এরপর তিনি পুনরায় বিদেশে চলে যান। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ভিকটিম এক কন্যাসন্তান প্রসূত করেন।
এরপর গত ২০ আগস্ট হরিদাস বিদেশে থেকে দেশে ফিরে স্ত্রী তিথি রানী দাসকে বিবাহবিচ্ছেদের পত্র পাঠান। বিচ্ছেদের পত্র পাওয়ার পর ভিকটিম বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে পলাশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলায় ভাতিজা অপূর্ব দাসকে ১ নম্বর এবং সাবেক স্বামী হরিদাসকে ২ নম্বর আসামী করা হয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম গোয়েন্দা তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে একই দিনে ১ নম্বর আসামী অপূর্ব দাসকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত প্রতিটি আসামীর দায়-দায়িত্ব নিরূপণের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ছবি সংগৃহীত।
