স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বাসাভাড়া দিতে না পেরে দুই দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে নিয়ে ফুটপাতে রাত কাটানোই যেন কাল হলো এক দুর্ভাগা নারীর। নিরাপদ আশ্রয়ের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই শিশুর চোখের সামনে ওই নারীকে মধ্যরাতে নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। নির্মম এই ঘটনার পর বিচারের বদলে চরম অপমানের শিকার হয়ে দুই সন্তানকে বুকে বেঁধে চলন্ত গাড়ির সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েন ওই মা।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পুরো বিষয়াটি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম।
স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টির পর দুই সন্তানকে নিয়ে একা সংগ্রাম করছিলেন মাওনা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই নারী। কিন্তু অর্থাভাবে গত মঙ্গলবার জৈনা বাজারের বাসা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি দুই শিশু নিয়ে মাওনা চৌরাস্তায় ফ্লাইওভারের নিচে খোলা আকাশের নিচে বসেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ উঠেছে, রাত গভীর হলে নেত্রকোনার অধিবাসী ও স্থানীয় পানের আড়তের ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন (৩৫) ওই অসহায় নারীকে আশ্রয়ের লোভ দেখিয়ে পানের আড়তের পেছনের এক অন্ধাকারাচ্ছন্ন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুদের বুকফাটা কান্না ও আকুতির তোয়াক্কা না করে ওই নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় সোহরাব।
ঘটনার পরের দিন সকালে বিচার চাইতে পানের আড়তে গেলে গৌতম ও শহীদ নামের দুই ব্যক্তি ধামাচাপা দিতে ওই নারীকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করেন। নজিরবিহীন এই অবমাননা ও শারীরিক যন্ত্রণায় টিকতে না পেরে দুপুরবেলা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দ্রুতগামী বাসের সামনে সন্তানদের নিয়ে ঝাঁপ দেন তিনি। স্থানীয় পথচারীরা অলৌকিকভাবে মা ও ২ বছরের শিশুকে অক্ষত অবস্থায় টেনে তুলতে পারলেও ৪ বছরের বড় শিশুটি বাসের ধাক্কায় রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে ও দুর্ঘটনাস্থলে ছোটেন। পুরো ঘটনার গভীর তদন্ত চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই ব্যবসায়ীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সোহরাবকে দ্রুত সোপর্দ ও আইনের কঠোরতম প্রয়োগে থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
