স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জুরাইন এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় নিজের সহযোগীর ছুরিকাঘাতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এক আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ভিকটিম মো. জনি, সহযোগী ছিনতাইকারী মেহেদী হাসান বাপ্পি এবং নূর আলম বারেক (২৪) কদমতলী থানার জুরাইন মোক্তার হোসেন সড়কে পথচারীদের ব্যাগ, মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাই করে। সে সময় আসামি বাপ্পি এক পথচারীকে লক্ষ্য করে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তা পথচারীর হাতে লেগে সরাসরি ভিকটিম জনির বুকে বিদ্ধ হয়। পরে তাদের ডাক-চিৎকারে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির দারোয়ান এগিয়ে এলে আসামিরা থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কদমতলী থানার টহল পুলিশ ভিকটিম জনিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের মা ডালিয়া (৬০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় ৩০২/৩৪ পেনাল কোড ধারায় একটি হত্যা মামলা (নম্বর-০১, তারিখ: ০১/০৯/২০২৬) দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ গত ৯ সেপ্টেম্বর স্বউদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে পিবিআইয়ের এসআই (নিঃ) মো. আমিরুল ইসলাম মীর এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকার্য পরিচালনা করছেন।
বিজ্ঞাপন
তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নিবিড় বিশ্লেষণ করে গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত প্রধান আসামি মো. মেহেদী হাসান বাপ্পি (২৮)-কে কদমতলী থানাধীন জুরাইন বরইতলী রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অপর আসামি মো. নুর আলম বারেক (২৪)-কে গত ১০ অক্টোবর জুরাইন নোয়াখাইল্যা পট্টি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের হেফাজত থেকে ঘটনার সময় ছিনতাই হওয়া একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ঘটনার রাতে ছিনতাই শেষে পালানোর সময় এক পথচারী ভিকটিম জনিকে ধরে ফেললে সে ধস্তাধস্তি করে পালানোর চেষ্টা চালায়। ওই সময় আসামি বাপ্পি পথচারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি চালালে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জনিকেই আঘাত করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মেহেদী হাসান বাপ্পি বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

