রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের সাড়ে তিন বছরের নিষ্পাপ শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত প্রতিবেশী শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন জনাকীর্ণ আদালতে এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ ও নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের কন্যাসন্তান সাইমা আক্তার সাবা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা সাইদুল ইসলাম। জিডির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমে ওই দিন গভীর রাতেই একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের বসতঘর থেকে ছোট্ট সাবার নিথর ও বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সন্দেহভাজন হিসেবে আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে থানা হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় তাঁকে পুলিশি গ্রেফতার দেখানো হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহ শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাত্র ২৭ দিনের মাথায় ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত মোট সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও সার্বিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধ সংঘটনের ৯ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আজ এ চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শান্তনা খাতুন ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি এলাকার আক্তারুজ্জামান মাসুমের স্ত্রী। রায় ঘোষণার পরপরই কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি রেকর্ড অল্প সময়ে নিষ্পত্তি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি সংগৃহীত।

