স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা পৌর কাঁচাবাজারে অনুমোদনহীনভাবে ১৮টি অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণের ফলে স্থান সংকট ও যোগাযোগ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের চলাচলের মূল পথ ও শেড দখল হওয়ায় কৃষিপণ্য কেনাবেচা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
যথাযথ কেনাবেচার পরিবেশ না পেয়ে বহু প্রান্তিক কৃষক তাঁদের কষ্টার্জিত উৎপাদিত সবজি বিক্রি না করেই ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের সুযোগ না থাকায় পাইকারি ক্রেতা ও ব্যাপারীরা বিকল্প হিসেবে পার্শ্ববর্তী সাতমাইলসহ অন্য হাটে পাড়ি জমাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে চৌগাছা বাজারে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী কৃষক, আড়তদার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে করুণ এ চিত্র দেখা যায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পচনশীল কৃষিপণ্যের মূল কেনাবেচার জায়গায় কোনো প্রকার আইনি অনুমোদন ছাড়াই হঠাৎ ১৮টি নতুন ঘর তুলে রাস্তা সংকেীর্ণ করে ফেলা হয়েছে। ফলে ট্রাক ঢোকা বা মালামাল ওঠানামার কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। এর ওপর সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বাজারে কাদা-পানি ও যত্রতত্র বাইক-গাড়ির জটের কারণে স্বাভাবিক চলাচলের উপায় নেই।
অভিযোগ উঠেছে, চৌগাছা কাঁচাবাজার আড়তদার বাণিজ্যিক সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন যোগসাজশ করে ঘর প্রতি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করে এসব অবৈধ দোকান বসিয়েছেন। তবে ওই দুই সম্পাদক ও সভাপতি কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের বিষয় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। যদিও বাজারে জায়গা সংকটের কারণে মালামালবাহী বড় ট্রাক ঢুকতে পারছে না বলে তারা স্বীকার করেন।
আড়তদার কাজী আশরাফ আলী জানান, বাজারে গাড়ি রাখা ও মালামাল নামানোর জায়গা না থাকায় দূরের পাইকার ও ব্যাপারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং সাতমাইল হাটে চলে যাচ্ছেন। ফলে স্থানী কৃষকদের পণ্য কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষক আজিজুর রহমান জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাজারে এসেও একটু বসার ঠাঁই বা দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে বিক্রি করতে না পেরে সবজি বাড়ি ফেরত নিয়ে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু কঠোর অভিযোগ তুলে বলেন, “জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ কিংবা পৌরসভার লিখিত অনুমতি ছাড়াই ইজারাকৃত প্রধান সরকারি জায়গায় জোরপূর্বক ১৮টি অস্থায়ী ঘর তোলা হয়েছে। হাট পরিচালনার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে এসব দখলকৃত স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদের দাবি জানাচ্ছি।”
পৌরসভার সার্বিক পরিবেশ ও অভিযোগের বিষয়ে চৌগাছা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান জানান, বিষয়টির সত্যতা যাচাইপূর্বক পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ছবি সংগৃহীত।


