স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
পরিবারের সম্পত্তি আত্মসাৎ, জমি দখল, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং নিজ জন্মদাতা পিতাকে মারধরের যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন চৌগাছা পৌর বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান লেন্টু।
বিজ্ঞাপন
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি তাঁর পিতার আনীত এসব অভিযোগকে ‘শতভাগ মিথ্যা, বানোয়াট ও গভীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, তিনি তাঁর পিতার কোনো জমি অন্যায্যভাবে ভোগদখল করেননি। বরং সততার সাথে সত্য গোপন করে ৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত দ্বিতল ভবনটি তাঁর পিতা তাঁকেও দুই বোনকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে ছোট ভাই শফিকুল ইসলামের নামে গোপনে রেজিস্ট্রি লিখে দিয়েছেন। এ ছাড়া পরিবারের অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগকেও তিনি সম্পূর্ণ আজগুবি বলে উড়িয়ে দেন।
লেন্টু আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনদের ইন্ধনে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা ১২টি। সম্প্রতি তাঁর পিতা প্রায় ১৫ কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবি তুলে যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর যে আবেদন করেছেন, সে বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লেন্টু বলেন— ওই দাবিকৃত সম্পদের বিন্দুমাত্র সত্যতা প্রমাণিত হলে তিনি তা সানন্দে ফেরত দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের সুরক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, গত ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি তাঁর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একদল দুষ্কৃতকারী জোরপূর্বক ঢুকে তাকে মারধর করে এবং দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়। উক্ত জঘন্য ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
একই সাথে সার ব্যবসা সংক্রান্ত বিতর্কের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় যেসব অবৈধ সারের চালান আটক করেছে, তার একটিও তাঁর নয়; বরং সেগুলো খাইরুল ইসলাম নামক এক ব্যবসায়ীর। এ সংক্রান্ত সমস্ত দাপ্তরিক তথ্য-প্রমাণ স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসে রক্ষিত রয়েছে।
চৌগাছা মডেল মসজিদ নির্মাণে উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) রিট পিটিশন দায়েরের বিষয়টি পরিষ্কার করে বিএনপি নেতা লেন্টু বলেন, “আমি বা ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ব্যবসায়ী মডেল মসজিদ নির্মাণ বন্ধের উদ্দেশ্যে আদালতে যাইনি। ৬৮১ নম্বর দাগের পরিবর্তে একই মালিকানাধীন ৬৫৩ নম্বর জমিতে যাতে মসজিদটি নির্মিত হয়— সেই দাবিতে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ৩ মাসের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) জারি করেছেন।”
গতকাল সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত সংবাদকে চরম বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে আতিকুর রহমান লেন্টু প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অন্যায্য হয়রানি বন্ধ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে আতিকুর রহমান লেন্টুর মামাতো ভাই টিপু সুলতানসহ স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

